শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী ও গুম-খুনের মূল নির্দেশদাতা: স্পিকার
নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ এবং বিগত শাসনামলে সংগঠিত সকল গুম ও হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার অন্তরালে তাঁর ভেতরেই লুকিয়ে থাকত হিংস্র মনোভাব।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে স্থানীয় নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন।
গুম-খুন ও আয়নাঘরের ভয়াবহ চিত্র
নাগরিক মতবিনিময় সভায় বিগত সরকারের নির্যাতন ও বিচারহীনতার চিত্র তুলে ধরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন:
স্বজনদের সাথে প্রতারণা ও অভিনয়ের মুখোশ: শেখ হাসিনা গুম হওয়া স্বজনদের ডেকে এনে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেন। অথচ তিনি নিজেই জানতেন গুম হওয়া ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে কোথায় আছেন বা তাদের কী পরিণতি করা হয়েছে। তৎকালীন সময়ে জনগণ তাঁর এই চাতুর্য বুঝতে না পারলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে শেখ হাসিনার আসল চেহারা উম্মোচিত হয়েছে।
ব্যারিস্টারকে ৮ বছর আয়নাঘরে বন্দি: বিগত স্বৈরাচারী শাসনের নির্মমতার উদাহরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, একজন সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টারকে টানা আট বছর হাতকড়া লাগিয়ে আয়না ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর সেই নির্যাতিত ব্যারিস্টার মুক্ত হন এবং বর্তমানে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
বিগত সরকারের দুর্নীতি ও লালমোহনের স্থানীয় সন্ত্রাস
আওয়ামী লীগ আমলের নজিরবিহীন দুর্নীতি ও ভোলা-৩ আসনের অতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দেন স্পিকার:
মেগা প্রকল্পে কেনাকাটার নামে লুটপাট: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রকল্পে চরম দুর্নীতির সমালোচনা করে তিনি জানান, একটি বালিশের দাম ৬০ হাজার টাকা এবং পর্দার দাম ৪২ হাজার টাকা দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সাবেক এক ভূমি প্রতিমন্ত্রী সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে লন্ডনে ৩৬০টি বিলাসবহুল বাড়ি গড়ে তুলেছেন।
লালমোহনের সন্ত্রাসী শাসন ও উপনির্বাচনের স্মৃতি: লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, সাবেক লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ছিলেন একজন চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী। ২০১০ সালের উপনির্বাচনে ঢাকা থেকে ক্যাডার এনে দিনে-দুপুরে বিরোধী নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা ও রামদা দিয়ে কোপানো হয়েছিল। এমনকি ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছিল এবং তাকে দেখতে হাসপাতালে যেতেও বাধা দেওয়া হয়।
নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠন ও স্বচ্ছতার আহ্বান
ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ:
তারেক রহমানের নেতৃত্বে ইনসাফের বাংলাদেশ: অতীত সরকারের সন্ত্রাসী ও লুটেরা শাসনের ধারাবাহিকতা আর কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দক্ষ নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সামাজিক ইনসাফের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে।
ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান: একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দলমত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
উক্ত মতবিনিময় সভায় লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল সভা পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।