কুবি শিক্ষকের সন্তান অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে মিলল গুরুত্বপূর্ণ ক্লু

September 19, 2026 | Feature-2 |

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্লু উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি শুধু আইফোন কেন্দ্রিক নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর উদ্দেশ্য ছিল, তা দ্রুতই উদ্ঘাটন করা হবে।

আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান এবং সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্তের অগ্রগতি ও জিজ্ঞাসাবাদ

ক্লু উদ্ধার ও জিজ্ঞাসাবাদ: কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ শুরু করে। হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলামত ও ক্লু পাওয়া গেছে। জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রধান সন্দেহভাজন আটক: নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ‘তুহিন’ নামের এক যুবকের সাথে অপ্রতীমকে বিকেলে বের হতে দেখা গিয়েছিল। সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আইফোনের সূত্র ধরে তদন্ত: হত্যাকাণ্ডের শিকার অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা তাঁর মায়ের দামি আইফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের একাধিক ইউনিট আইফোন চুরির চেষ্টা নাকি অন্য কোনো বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে।

ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য

হত্যার ধরন ও চিহ্ন: কোটবাড়ি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধারের সময় তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী: প্রথম লাশ দেখতে পাওয়া আব্দুল কাদের জিলানী জানান, বেলা আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার দিকে বাঁশ কাটার সময় এক ছেলে জঙ্গল ঘেঁষে কাউকে শুয়ে থাকতে দেখে। পরে কাছে গিয়ে মাথায় রক্ত জমাট বাঁধা ও জখমের চিহ্ন দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের খবর দেওয়া হয়।

প্রশাসন ও কুবির প্রতিক্রিয়া

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অবস্থান:

কুবির প্রক্টরের মন্তব্য: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা পুলিশ, ডিবি ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের সাথে শুরু থেকেই যোগাযোগ রেখেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ছেলেটিকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলাম না। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও নিখোঁজ।”

সংসদ সদস্যের নির্দেশ: ঘটনার পরপরই স্থানীয় সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৬) মনিরুল হক চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনায় জড়িত ঘাতকদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন।



Leave a Comment