কুবি শিক্ষকের সন্তান অপ্রতীম হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আটক ৩
কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য উদ্ঘাটনে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে মূল সন্দেহভাজন তরুণ তুহিনসহ মোট তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস ও কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
সিসিটিভি ফুটেজ ও আটক অভিযান
প্রথম আটক (তুহিন): অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পরপরই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কুবির প্রক্টরিয়াল টিম। ফুটেজে অপ্রতীমের সাথে এক তরুণের গতিবিধি অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ ‘তুহিন’ নামের ওই তরুণকে প্রথমে আটক করে।
পরবর্তী দুই আটক (আনাস ও ফাহিম): পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তুহিনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আনাস এবং ফাহিম আহমেদ নামের আরও দুই তরুণকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনজনকেই জোড়ালোভাবে জেরা করা হচ্ছে।
মোবাইল লোকেশন ও লাশ উদ্ধারের তথ্য
মোবাইল ট্র্যাকিং: শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোনটি সাথে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতীম। পুলিশের ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ফোনটির অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল; এরপর থেকে সেটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
লাশ উদ্ধার ও আলামত: আজ দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের এক নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাতের আলামত পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুর সাথে থাকা মায়ের দামি আইফোনটি ঘটনাস্থল বা লাশের সাথে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত তিনজনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও আইফোনের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।