পটুয়াখালীতে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে ইমরান ট্রাভেলসের যাত্রীবাহী বাস ও অটোরিকশার ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশের রেকার দিয়ে খাদ থেকে উত্তোলনের পর পানির ভেতর থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিবাগত রাতে নিহত চারজনেরই পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
নিহতদের পরিচয়
সিআইডি কর্তৃক নিশ্চিতকৃত নিহতদের পরিচয়:
কাইউম প্যাদা (৫০): পিতা- রাজ্জাক প্যাদা, গ্রাম- আমখোলা, উপজেলা- গলাচিপা।
শিল্পী রানী (৪০): পিতা- অনিল হাওলাদার, গ্রাম- চার আনি বাউরিয়া, উপজেলা- গলাচিপা।
জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৫): পিতা- আব্দুস সালাম হাওলাদার, গ্রাম- বদরপুর, উপজেলা- গলাচিপা।
তিথী (২৩): পিতা- ধীরেন মিস্ত্রী, গ্রাম- বিলবিলাস, উপজেলা- বাউফল।
নিহতদের মরদেহ বর্তমানে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও উদ্ধার কাজের বিবরণ:
ঘটনার বিবরণ: রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় বরগুনার তালতলী থেকে ছেড়ে আসা ‘ইমরান ট্রাভেলস’-এর বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রী বোঝাই অটোরিকশাকে সরাসরি চাপা দেয়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুটি যানই সড়কের পাশের খাদে ও পানিতে পড়ে যায়।
রেকার দিয়ে বাস উদ্ধার: প্রত্যক্ষদর্শীদের বিকট শব্দের পর স্থানীয়রা ছুটে এসে প্রাথমিক উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং পুলিশ-ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশার তিন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে পুলিশের ভারী রেকার দিয়ে খাদে নিমজ্জিত বাসটি তোলার সময় পানির নিচে চাপা পড়ে থাকা চতুর্থ মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য: পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান জানান, পানির ভেতরে বা বাসের নিচে আরও কেউ আটকে আছে কি না—তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এবং স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা ঘটনার তদন্ত ও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে দুর্ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন।