৬ মাসে ৩ দফায় বাড়ল তেলের দাম, সরকারের গণবিরোধী পদক্ষেপে অতিষ্ঠ জনগণ: জামায়াত নেতৃবৃন্দ
সিলেট ব্যুরো : বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাস স্বত্বেও দেশে বারবার তেলের দাম বাড়ানোকে সরকারের চরম গণবিরোধী পদক্ষেপ ও জনগণের সাথে প্রতারণা হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে চরম সংকটে ফেলে দিয়েছে।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাদ আসর কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
ছয় মাসে তিনবার তেলের দাম বৃদ্ধির পরিসংখ্যান ও প্রভাব
তিন দফার হিসাব: মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম তুলে ধরেন যে, সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর গত ১৮ এপ্রিল প্রথম দফায়, ৩১ মে দ্বিতীয় দফায় এবং সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে।
জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব: বিশ্ববাজারে দাম কম থাকা স্বত্বেও দেশে অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ানোর ফলে পরিবহন খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী হবে। এর ফলে ভিক্ষুক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
গণশুনানি এড়ানোর অভিযোগ: সংসদে বা বিইআরসির মাধ্যমে গণশুনানির প্রতিশ্রুতি থাকলেও রাতের আঁধারে দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা, দলীয়করণ ও জুলাই সনদের দাবি
লুটপাট ও দলীয়করণ: সভাপতির ভাষণে ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, দেশে চরম আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটেছে এবং নারী-শিশুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের বসিয়ে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে বর্ধিত তেলের দাম প্রত্যাহারসহ ‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোটের রায়’ দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
জেলা আমীরের বক্তব্য: সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, “পতিত আওয়ামী সরকারের মতোই রাতের আঁধারে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসিয়ে নেতাকর্মীদের লুটপাটের যে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তার দায় জনগণের ওপর চাপাতেই এই সিদ্ধান্ত। এর পরিণতি সরকারের জন্য শুভ হবে না।”
সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি
সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ও চসিক/সিসিক নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব ও জাহেদুর রহমান চৌধুরী, ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সিলেট মহানগরের সভাপতি অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজুসহ স্থানীয় জ্যেষ্ঠ জামায়াত নেতৃবৃন্দ।