জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: যুদ্ধ নয়, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের তাগিদ

September 25, 2026 | Feature-1 |

নিউজ ডেস্ক: জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সংঘাতের বদলে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি সমঝোতামূলক ও শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সাথে দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের পর ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে সরকার ‘থ্রি-আর’ (রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন) কৌশল অনুসরণ করছে বলে বিশ্বমঞ্চে উল্লেখ করেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ আলোচনায় বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রদত্ত প্রথম ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্বশান্তি, সংঘাত নিরসন ও কূটনীতি

কূটনীতি ও সমতার তাগিদ: প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা ও সম্মান। মারণাস্ত্রের বদলে যুক্তি-তর্ক, শিক্ষা, কূটনীতি ও মানবতাই হওয়া উচিত বিশ্ব পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার।

চলতি সংঘাত ও অর্থনৈতিক প্রভাব: বৈশ্বিক সংঘাতের ফলে জ্বালানি সংকট, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ও অভূতপূর্ব মূল্যস্ফীতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘকে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রেখে সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ গড়ে তোলার গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ফিলিস্তিন ইস্যু: আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জন ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ফিলিস্তিনের গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি বাংলাদেশ তার দৃঢ় ও অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।

রোহিঙ্গা সংকট ও টেকসই সমাধান

সংকটের স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ৯ বছরের বেশি সময় ধরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকটের মূল উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর টেকসই সমাধান সেখানেই নিহিত।

আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান: রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের জরুরি জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তার কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন ও ‘থ্রি-আর’ নীতি

‘থ্রি-আর’ কৌশল: ২০২৪ সালে দীর্ঘ দেড় দশকের গুম, খুন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে নতুন করে গণতান্ত্রিক যাত্রায় ফিরেছে দেশ। সরকার দেশ পুনর্গঠনে ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ (Three-R) নীতি বাস্তবায়ন করছে।

ম্যানুফ্যাকচারিং হাব ও ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড: দেশের বিপুল কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে একটি অন্যতম ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ প্রক্রিয়ায় তিনি বৈশ্বিক উন্নয়ন সহযোগীদের বিনিয়োগ ও সমর্থনের আহ্বান জানান।

তরুণদের জন্য স্টার্টআপ ফান্ড: দেশের নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও গবেষকদের সহায়তা করতে চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে অবহিত করেন তিনি।

অভিনন্দন ও সভাপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা

ভাষণের সূচনায় সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর কার্যকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেন। একই সাথে তিনি বিদায়ী সভাপতি ম্যাডাম অ্যানালেনা বেয়ারবককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।



Leave a Comment