হকার ও সিটি করপোরেশনের সংঘর্ষ: স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমানকে না জানানোয় বিস্ময় প্রকাশ

September 30, 2026 | Feature-2 |

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় সিটি করপোরেশনের ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকার, সিটি করপোরেশন কর্মী ও পুলিশের মধ্যে ঘটে যাওয়া সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমান।

আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিজের সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে এই উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার কথা জানান তিনি।

স্থানীয় সংসদ সদস্যকে না জানানো ও বিকল্প ব্যবস্থার দাবি

এমপিকে না জানানোর প্রতিক্রিয়া: রাজধানীর ওই আসনটির প্রতিনিধি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগে এ ধরনের বড় উচ্ছেদ অভিযান চালানো তাঁকে বিস্মিত করেছে। পারস্পরিক পরামর্শ থাকলে ঘটনাটির আরও কার্যকর ও শান্তিপূর্ণ রূপরেখা বের করা যেত বলে তিনি মনে করেন।

বিকল্প পুনর্বাসনের তাগিদ: ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় এই রাজনৈতিক নেতা উল্লেখ করেন যে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সম্পূর্ণ বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ না দিয়ে সরাসরি উচ্ছেদ চালানো কোনো মানবিক ও টেকসই সমাধান নয়। একপক্ষে উচ্ছেদ না চালিয়ে সমন্বিত ও বাস্তবমুখী কৌশল নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হকারদের চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিবাদ নিয়ে অবস্থান

অসাধু চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের সমালোচনা: জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, মাসের পর মাস অসাধু চাঁদাবাজ চক্র এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসভিত্তিক টাকা তুলে ফুটপাতে বসিয়েছে, যার পুরো আর্থিক দায় এসে পড়েছে সাধারণ জনগণের ওপর। এই অসাধু বাণিজ্যকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেন তিনি।

শান্ত থাকার উদাত্ত আহ্বান: সকল পক্ষকে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সমাধান নিরপেক্ষ ও মানবিক হতে হবে। তবে একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো স্থান হবে না।”

উচ্ছেদ অভিযান ও সহিংসতার প্রেক্ষাপট

সংঘর্ষের ভয়াবহতা: বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ চালাতে গেলে শর্ট সার্কিটের জের ধরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে সিটি করপোরেশনের যানবাহন ও পরিচ্ছন্নতার যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা: পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা প্রদান ও হামলার অভিযোগ উঠে আন্দোলনকারী হকারদের বিরুদ্ধে।



Leave a Comment