কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সিএনজিচালক: পুলিশ
কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫) সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার রোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মূল অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গ্রেপ্তারকৃত চালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাতে দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে রেসকোর্স এলাকার বাসার উদ্দেশ্যে সুমনের চালিত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। গভীর রাতে কিশোরীকে একা পেয়ে চালক সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে না গিয়ে ভিন্ন ও অন্ধকার পথে গাড়ি চালাতে শুরু করে।
বিষয়টি বুঝতে পেরে চলন্ত অটোরিকশা থেকেই তাজমিন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার বাবার কাছে ‘লাইভ লোকেশন’ ও উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে বার্তা পাঠায়। তবে গভীর রাত হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সেই বার্তা সময়মতো দেখতে পাননি।
অটোরিকশাটি বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি নির্জন ধানক্ষেতে থামে। সেখানে নিজেকে বাঁচাতে তাজমিন ধানক্ষেতের মধ্যে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চালক সুমন একাই তাকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যায়।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত থাকায় পরিবার নিয়ে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাজমিন স্থানীয় ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল; তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ক্লাসে অনুপস্থিত ছিল।
গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে নূরজাহান হোটেলের সামনে দেখা যাওয়ার পর রাত ২টা ৫৮ মিনিটে সে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে লোকেশন পাঠায়। পরদিন সকালে জগতপুরের ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি পুলিশ ও জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে মূল অভিযুক্ত চালক সুমনকে আটক এবং তার দেখানো স্থান থেকে নিহতের আইফোনটি জব্দ করা হয়।