ফ্লাইট বিপর্যয়ে ১৩ হাজার প্রবাসী অনিশ্চয়তায়, জরুরি কূটনৈতিক পদক্ষেপের তাগিদ জামায়াত আমিরের

October 14, 2026 | Feature-2 |

নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার যাত্রী। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মী ও ওমরাহ যাত্রীদের কর্মসংস্থান ও স্বার্থ সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তাগিদ দেন।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্লাইট বাতিলের ফলে মোট ১৩ হাজার ৪৯০ জন যাত্রী চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত থাকায় প্রবাসী কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী এবং ওমরাহ যাত্রীদের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যা তাঁদের পরিবার ও দেশের অর্থনীতির জন্য গভীর চিন্তার বিষয়।

তিনি উল্লেখ করেন, নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারলে অনেক প্রবাসী কর্মীর চাকরি হারানো, নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তিগত জটিলতা এবং আর্থিক ক্ষতির প্রত্যক্ষ আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভিসার মেয়াদ ও সৌদি আরবের আইনি বিধিনিষেধের কারণে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে এটি কেবল যাতায়াতের অসুবিধা নয়; বরং হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

জামায়াত আমিরের মূল সুপারিশ ও আহ্বানসমূহ:

জরুরি কূটনৈতিক যোগাযোগ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে অবিলম্বে সৌদি কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রবাসী কর্মীদের চাকরির সময়সীমা বাড়ানো এবং ভিসা জটিলতা নিরসনে আলোচনা করতে হবে।

বিকল্প রুট ও নিরাপদ বিমানবন্দর: ঝুঁকিপূর্ণ বা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা বিমানবন্দর এড়িয়ে সৌদি আরবের অন্য কোনো নিরাপদ বিমানবন্দর কিংবা বিকল্প রুটে যাত্রীদের পৌঁছানোর সম্ভাবনা যাচাই করতে হবে।

বিনামূল্যে পুনঃটিকিটায়ন ও সহায়তা: যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিমান সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিকল্প ফ্লাইট, টিকিটের সময় পরিবর্তন এবং সার্বিক যাত্রাসহায়তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

বিবৃতির শেষে বিরোধীদলীয় নেতা সতর্ক করে বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় সামান্য অবহেলা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব রেমিট্যান্স খাত তথা জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রবাসী কর্মীদের নিরাপদ যাত্রা ও কর্মসংস্থান রক্ষায় সরকারকে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।



Leave a Comment