ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য রক্ত দেয়নি: ডা. শফিকুর রহমান

October 20, 2026 | Feature-2 |

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: জুলাই বিপ্লবে দেশের ছাত্র-জনতা কোনো লুটেরা, চাঁদাবাজ কিংবা অত্যাচারী চক্রকে বসানোর জন্য রক্ত দেয়নি উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না। আগামীতে প্রত্যেকটি অপকর্মের জন্য অপরাধীদের হিসাব দিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী আয়োজিত ‘ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মানুষের ওপর জুলুম করা, মৌলিক অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক মেরে দেওয়ার কঠোর জবাবদিহি করতে হবে। অতীতের ঘটনা ও রাজনৈতিক বিপর্যয় থেকে সবাইকে শিক্ষা নিতে হবে। সাবেক একজন বিচারপতি পালিয়ে গিয়ে সীমান্ত এলাকায় কলাপাতার ওপর আশ্রয় নেওয়া এবং পরে আটক হওয়ার ঘটনাই প্রমান করে—অন্যায় করে কেউ শেষ রক্ষা পায় না।”

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমীর আরও বলেন, “দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন কিছু বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, যেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবান্তর। কথার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ার মতো সময় আমাদের নেই। আদর্শ, সততা ও কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

ইসলামী আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও শীর্ষ নেতাদের স্মরণ

গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে জামায়াত আমীর বলেন, “আমাদের শীর্ষস্থানীয় ১২ জন নেতাকে শতাব্দীর নিকৃষ্ট মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ তাঁরা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে একটি বৈষম্যহীন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁদের ত্যাগের বিনিময়েই আজ জামায়াতের ওপর সাধারণ মানুষের আমানত ও বিশ্বাসের ভিত তৈরি হয়েছে।” তিনি নেতাকর্মীদের আমৃত্যু সততা ও নৈতিকতার সাথে পথচলার আহ্বান জানান।

শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের ভূমিকা ছিল বীরত্বপূর্ণ। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আদর্শিক রাষ্ট্র গঠনে তরুণেরাই আগামীতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের এই বিশাল সমাবেশ কেবল কোনো মেলা নয়, বরং অর্জিত অভিজ্ঞতা ও আদর্শিক শিক্ষা দিয়ে দেশ গড়ার নতুন প্রত্যয়।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, গত নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশার যে প্রতিফলন ঘটেছে, তাকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি সুশাসন ও ন্যায়বিচারের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি, এবং ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদসহ প্রাকন চবি ও ঢাকসু ছাত্রনেতৃবৃন্দ।

সম্মেলনের সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সংগঠনের সুশৃঙ্খল বলয়ে থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে আনসার ও মুহাজিরদের মতো দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।



Leave a Comment