প্রেমিকের আপত্তির জেরে ১৩ বছরের যমজ দুই ছেলেকে হত্যা, মা গ্রেপ্তার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজস্থানে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার অন্ধ মোহে নিজের প্রথম স্বামীর ঘরে জন্ম নেওয়া ১৩ বছর বয়সী যমজ দুই ছেলেকে ঠান্ডা মাথায় হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই সন্দেহভাজন ওই মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও প্রেমিকের প্রত্যাখ্যান
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই নারীর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি তাঁর চার সন্তানকে নিয়ে রাজস্থানের ডিগ জেলায় নিজের বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করছিলেন। এর মধ্যেই প্রতিবেশী এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু ওই ব্যক্তি নারীর আগের সংসারের কোনো সন্তানকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাদের রেখে তাঁকে বিয়ে করতেও সাফ मना করে দেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রেমিকের এই প্রত্যাখ্যান ও অন্ধ ক্ষোভ থেকেই নিজের যমজ দুই সন্তানকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো নির্মম পথ বেছে নেন ওই নারী।
মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ
দশেরার দিন সকালে গ্রামের একটি উন্মুক্ত মাঠ থেকে যমজ দুই কিশোরের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মুহূর্তেই চাঞ্চল্যকর এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলে উৎসুক জনതার উপচে পড়া ভিড় জমে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানো এবং আলামত বা প্রমাণ রক্ষা করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
পরে পুলিশ সুপার শরণ গোপীনাথের নির্দেশনায় ঘটনাস্থলে ডগ স্কোয়াড, ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল) টিম এবং মোবাইল অফিসার অব ইনভেস্টিগেশন (এমওবি) দল পাঠানো হয়। পাশাপাশি এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশের একাধিক বিশেষ দল। প্রায় ছয় ঘণ্টার নিবিড় তদন্ত ও সংগৃহীত সূত্রের ভিত্তিতে আসল রহস্য ভেদ করে পুলিশ।
বাড়ির ভেতরেই খুন, জব্দ আলামত
পুলিশ সুপার শরণ গোপীনাথ জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও ফরেনসিক আলামত থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে শিশু দুটিকে বাড়ির ভেতরেই অত্যন্ত সুকৌশলে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র, রক্তমাখা পোশাকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছে।
নিহত দুই কিশোরের মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ওই নারীর প্রেমিক কিংবা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন বা সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।