৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে দেশে ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান
নিউজ ডেস্ক: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা হলো অন্যায়-অবিচার, একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনা। এই চেতনা ধারণ করেই দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) সকালে রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার কথা তুলে ধরে বলেন, তৎকালীন সরকারের অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত, সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে দমনপীড়ন এবং একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা চালুর কারণে দেশজুড়ে চরম অস্থিরতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ১৫ আগস্টের পর ৩ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ক্ষমতার পালাবদলের একপর্যায়ে ৭ নভেম্বর ভোরে সিপাহি ও সাধারণ জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি সংঘটিত করে। তিনি বলেন, ইতিহাসের কোনো ব্যক্তির অবদানকে খাটো না করে এবং কৃতিত্বের লড়াই না করে যার যেখানে অবদান, তা যথাযথভাবে স্বীকার করতে হবে।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে এবং জনস্বার্থের অধ্যাগুলো বাদ দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করা হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুবসমাজের প্রত্যাশা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার উপেক্ষা করে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হলে জাতি বড় ধরনের সংকটে পড়বে।
সরকারকে ভুল পথ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ন্যায়সংগত দাবিতে বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনা অব্যাহত রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের মনের ভাষা বুঝে দেশ পরিচালনা না করলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে শুধু সামরিক বিষয় হিসেবে না দেখে একদলীয় শাসন ও জনমনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সময়েও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন। কিন্তু বর্তমান সময়েও চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, বাজার সিন্ডিকেট ও জনদুর্ভোগ পুরোপুরি দূর হয়নি। একটি জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।