পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পোল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও অন্যতম প্রধান পর্যটন শহর ক্রাকোর ঐতিহাসিক চত্বরে এক উগ্র ডানপন্থি বন্দুকধারীর নৃশংস হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য ও বিদেশি পর্যটকসহ আরও ১৫ জন। হামলার পর পুলিশি অভিযানে সন্দেহভাজন হামলাকারী আহত ও আটক হওয়ার পাশাপাশি তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও তিন স্বজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) স্থানীয় সময় বেলা ৩টার কিছু আগে ক্রাকোর ব্যস্ততম ও ঐতিহাসিক ‘মেইন মার্কেট স্কয়ার’-এ এই রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সামরিক বাহিনীর মতো পোশাক এবং আধুনিক ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ২৫ বছর বয়সী এক পোলিশ তরুণ গাড়ি চালিয়ে আচমকা চত্বরে প্রবেশ করে। এরপর সে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। প্রায় তিন মিনিট ধরে চলা এ তাণ্ডবে মেইন মার্কেট স্কয়ারের দোকানপাটের কাচ ভেঙে গুঁড়িয়ে যায় এবং একটি ট্রামেও একাধিক গুলি লাগে।
হামলাকারীর গুলিতে চার নারী ও দুই পুরুষসহ মোট ছয়জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতদের মধ্যে তিনজন পোল্যান্ডের নাগরিক ও একজন যুক্তরাজ্যের নাগরিক। বাকি দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
হামলার পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা ঘাতক গাড়িটিকে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীর তীব্র গুলিবিনিময় হয়। এতে সন্দেহভাজন তরুণ গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত হয়। গুলিবিনিময়ে সিনিয়র কনস্টেবল ইয়াকুব কুলিক ও সিনিয়র কনস্টেবল আরতুর মোরানস্কি নামের দুই পুলিশ সদস্য আহত হন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক আহত পুলিশ সদস্যদের নাম প্রকাশ করে তাঁদের ‘প্রকৃত বীর’ বলে আখ্যা দেন এবং জানান যে তাঁদের সাহসিকতার কারণেই শত শত মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে।
হামলাকারী ২৫ বছর বয়সী পোলিশ তরুণকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। সে কোনো সামরিক বাহিনীর সদস্য ছিল না, তবে তার গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে ক্রাকো থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে সন্দেহভাজনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজন স্বজনের (দুই নারী ও এক পুরুষ) মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে, মূল হামলার আগেই সে নিজের পরিবারের এই সদস্যদের হত্যা করে।
পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারচিন কিয়েরভিনস্কি ও প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানান, হামলাকারী চরম উগ্র ডানপন্থি ও অতিজাতীয়তাবাদী মতাদর্শে অন্ধ ছিল। পোল্যান্ডের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ও নির্মম সন্ত্রাসী ঘটনা।
হামলার পর পোল্যান্ড জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। আহত ১৫ জনের মধ্যে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রিয়া, রাশিয়া, জার্মানি ও পর্তুগালের নাগরিকেরা রয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ক্রাকো শহরে আনুষ্ঠানিক শোক পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা ও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এবং যুক্তরাজ্য সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পোল্যান্ড সফররত নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে যুক্তরাজ্য।