পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু লামিসাকে গলা কেটে হত্যা: গ্রেফতার ২
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ৭ বছর বয়সী শিশু লামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে মূল হোতাসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার সহযোগী স্বপ্না আক্তার।
ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার আশঙ্কা:
প্রাথমিক তদন্ত ও আলামত পর্যালোচনার পর পুলিশ ধারণা করছে, অবুঝ শিশু লামিসাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডস্থলে অভিযান চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ছোরা, নিহত শিশুর বিচ্ছিন্ন মাথাসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
৭ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান:
পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টার দিকে পল্লবীর একটি বাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিসাকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পরই খুনিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে পুলিশ দ্রুত মাঠে নামে।
তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে প্রথমে ঢাকা থেকে সহযোগী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরের পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে খাঁচায় বন্দি করে পুলিশ।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া:
পল্লবী থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও নেপথ্যের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং হত্যা আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই পাশবিক ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত আছে।