পশ্চিমবঙ্গে উগ্রপন্থীদের ভয়ে ফাঁকা গরুর হাট, কুরবানি নিয়ে মুসলিমদের মাঝে আতঙ্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে উৎসবের আনন্দের চেয়ে আতঙ্ক ও শঙ্কা বেশি কাজ করছে। বিশেষ করে গবাদি পশুর হাটগুলোতে তীব্র ক্রেতা সংকট এবং এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র এক বিশেষ সরেজমিন প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
আতঙ্কে ফাঁকা গবাদি পশুর হাট:
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ গবাদি পশুর হাটগুলোতে এবার অন্যান্য বছরের মতো চেনা ভিড় বা কোলাহল নেই। হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি একেবারেই নগণ্য। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কট্টরপন্থী দল ও গো-রক্ষা কমিটির ক্রমবর্ধমান তৎপরতা এবং গবাদি পশু পরিবহনকে কেন্দ্র করে নানামুখী হয়রানি ও সহিংসতার ভয়ে সাধারণ মানুষ হাটে আসতে ভয় পাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা দূর-দূরান্ত থেকে হাটে পশু আনতে গিয়ে রাস্তায় উগ্রপন্থীদের বাধার মুখে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও পশু কেড়ে নেওয়া এবং মারধরের ঘটনা ঘটছে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা কোরবানি করার জন্য পশু কিনে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
ধর্মীয় আচার পালনে নতুন সংকট:
পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত একটি বড় অংশের মানুষ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। কিন্তু বর্তমান political পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের উদাসীনতার কারণে এই ধর্মীয় আচার পালন করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাটের ইজারাদার ও গবাদি পশু বিক্রেতারা ব্যাপক আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেকে বলছেন, পশুর পেছনে যে খরচ হয়েছে, ক্রেতা না থাকায় তার অর্ধেক দামেও পশু বিক্রি করা যাচ্ছে না।
আইনি কড়াকড়ি ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ:
আলজাজিরার প্রতিবেদনে কয়েকজন স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দার বরাতে জানানো হয়, অতীতে এই রাজ্যে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবাদি পশু জবাই ও পরিবহন সংক্রান্ত নানামুখী আইনি কড়াকড়ি এবং উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রকাশ্য হুমকির কারণে মুসলিম পাড়াগুলোতে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়েছে। বহু পরিবার এবার কোরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসছেন অথবা যৌথভাবে ছোট পরিসরে করার কথা ভাবছেন।
সব মিলিয়ে, উৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের এই ঐতিহ্যবাহী গরুর হাটগুলোর শূন্যতা ও সাধারণ মানুষের ভেতরের আতঙ্ক ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর ভেতরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতার বর্তমান সংকটের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।