পশুর হাট থেকে মহাসড়ক,সবখানেই থাকবে তীক্ষ্ণ নজরদারি: র‍্যাব ডিজি

মে ২৬, ২০২৬ | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) দেশজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) আহসান হাবীব পলাশ। তিনি বলেন, “পশুর হাট থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ঘরমুখো যাত্রা এবং মহাসড়ক—সবখানেই র‍্যাবের তীক্ষ্ণ ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।” আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সরজমিনে পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশজুড়ে বিশেষ টহল ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
র‍্যাব প্রধান জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই র‍্যাবের সকল ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ আওতাধীন এলাকায় জোরদার টহল (রোবাস্ট পেট্রোলিং) শুরু করেছে। এ ছাড়া জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের প্রধান প্রধান ঈদের জামাতগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স ও সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোবাইল চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি ও চুরি-ছিনতাই রোধে নজরদারি:
উৎসবের আমেজকে কাজে লাগিয়ে কোনো কালোবাজারি বা অসাধু চক্র যেন অবৈধ মজুতদারি, কৃত্রিম উপায়ে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, খাদ্যে ভেজাল কিংবা নকল সামগ্রী দিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেজন্য র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে।

র‍্যাব ডিজি আরও উল্লেখ করেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ বড় বড় শহরগুলো ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে সকল মেট্রোপলিটন শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাত্রিকালীন নিরাপত্তা চৌকি এবং টহলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি র‍্যাবের সাইবার উইং অনলাইনে যেকোনো ধরনের গুজব বা উসকানিমূলক তৎপরতা রুখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং কার্যক্রম চালু রেখেছে।

পশুর হাট ও জাল টাকা চক্রের বিরুদ্ধে অ্যাকশন:
কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা এবং জাল টাকার বিস্তার রোধে র‍্যাবের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, “হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের সব ধরনের ভোগান্তি ও চাঁদাবাজি রোধে আমাদের সাদা পোশাকের সদস্যরা কাজ করছেন। জাল নোট চক্রের সদস্যদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে এবং হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।” পশুবাহী কোনো ট্রাক বা যানবাহনকে অসাধু চক্র যাতে জোরপূর্বক নির্দিষ্ট কোনো হাটে নিয়ে যেতে বাধ্য করতে না পারে, সে বিষয়ে হাইওয়েতে র‍্যাবের বিশেষ নজরদারি রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

নিরাপত্তা ঝুঁকি বা থ্রেট প্রসঙ্গে:
ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি বা জঙ্গি হামলার হুমকি রয়েছে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব মহাপরিচালক অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত এই ধরনের কোনো আশঙ্কাজনক থ্রেট বা হুমকির তথ্য পাইনি। কোনো বড় হুমকি না থাকলেও আমাদের নিজস্ব যে নিয়মিত বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও সর্বোচ্চ সতর্কতা থাকে, তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর রয়েছে। তাই ঈদ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।” দেশের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে স্বজনদের সাথে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য র‍্যাব সর্বাত্মক সেবা দিয়ে যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।



Leave a Comment