মক্কা থেকে আল-আকসা: আনন্দ ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বিশ্ব মুসলিমের ঈদ উদযাপন (ছবি)
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং ত্যাগের মহান মহিমায় এশিয়া থেকে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ—সমগ্র বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। আজ বুধবার (২৭ মে) বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমান সকালের প্রারম্ভেই নিজ নিজ দেশের প্রধান মসজিদ, খোলা মাঠ ও ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য সমবেত হন। নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি এবং পরস্পরের সাথে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন তাঁরা।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ সচিত্র প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে ঈদ উদযাপনের এই বৈশ্বিক চিত্রটি তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ঈদচিত্র:

সৌদি আরব ও মক্কা: পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর মক্কার মসজিদুল হারাম (কাবা শরিফ) এবং মদিনার মসজিদে নববীতে লাখো হাজি ও স্থানীয় মুসলিমরা ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন। মহান আল্লাহর দরবারে বিশ্ব মুসলিমের শান্তি ও ঐক্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ফিলিস্তিন ও জেরুজালেম: ইসরাইলি আগ্রাসন ও তীব্র যুদ্ধ-উত্তেজনার মাঝেই অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত পবিত্র আল-আকসা মসজিদে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। গাজায় চলমান মানবিক সংকটের কারণে এবারের ঈদে ফিলিস্তিনিদের মাঝে আনন্দের চেয়ে বিষাদ ও প্রার্থনার আবহ ছিল বেশি।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। এসব দেশের ঐতিহ্যবাহী বড় বড় ঈদগাহ ও জাতীয় মসজিদগুলোতে ছিল মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়।
দক্ষিণ গাজা উপত্যকার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ধ্বংস হওয়া একটি মসজিদের ধ্বংসস্তূপের পাশে ফিলিস্তিনিরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করছেন।
আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য: মিশর, তুরস্ক, কেনিয়া, নাইজেরিয়া এবং ইয়েমেনেও রঙিন উৎসবের আমেজে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। ঈদের নামাজ শেষে বিশেষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে শিশুরা মেতে ওঠে উৎসবের আনন্দে।
ত্যাগের মহিমা ও সামাজিক সম্প্রীতি:
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঈদুল আজহা মূলত মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান ত্যাগের স্মরণে পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা পশু কোরবানির পর সেই মাংসের একটি বড় অংশ সমাজের দরিদ্র, অভাবী ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বিতরণ করছেন। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের ভেতরের অহংকার ও স্বার্থপরতাকে বিসর্জন দিয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ত্যাগের সমাজ গড়ে তোলা।
যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে প্রার্থনার ঈদ:
বিশ্বের অনেক দেশের মুসলমানরা যখন উৎসবের আলোয় ভাসছেন, তখন গাজা, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে এই ঈদ এসেছে চরম কষ্টের মাঝে। তীব্র খাদ্যসংকট ও মাথার ওপর বোমাবর্ষণের আতঙ্কের মধ্যেই তারা অস্থায়ী তাবু বা ধ্বংসস্তূপের পাশে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পরম করুণাময়ের দরবারে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করেছেন।
লেবাননের বৈরুতে মোহাম্মদ আল-আমিন মসজিদের বাইরে নামাজের পর পরিবারের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করার সময় একটি মেয়ে একটি বেলুন ধরে আছে।
কেনিয়ার নাইরোবিতে ঈদুল আযহার আগে কিয়ামাইকো বাজারে একটি ছেলে ছাগল পাহারা দিচ্ছে।
ইরাকের নাজাফে ইমাম আলী মাজারে ঈদুল আজহার নামাজের জন্য সমবেত হয়েছেন ইরাকি শিয়া মুসলমানরা।
ইয়েমেনের তাইজের ফ্রিডম স্কোয়ারে ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের অপেক্ষায় থাকা নারীদের ভিড়ের কাছে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত এক ইয়েমেনি বালক দাঁড়িয়ে আছে।