যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ৫

মে ২৯, ২০২৬ | Feature-2 |

লেবাননে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় লেবাননে সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। আজ শুক্রবার (২৯ মে) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরপরই দফায় দফায় হামলা:

প্রতিবেদনে বলা হয়, হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুমোদন করা হয়েছিল, তা কার্যকরের পর থেকেই ইসরায়েল একের পর এক উস্কানিমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ (NNA)-এর বরাতে জানা গেছে, দক্ষিণ লেবাননের মারজায়ুন, খিয়াম এবং তায়ার (Tyre) অঞ্চলের বেশ কিছু বেসামরিক এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই আকস্মিক হামলায় ঘটনাস্থলেই পাঁচজন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়।

লেবানন সরকারের তীব্র ক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ:

ইসরায়েলের এই বেপরোয়া আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে লেবাননের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। লেবাননের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, চুক্তি অনুযায়ী সীমান্ত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও ইসরায়েল উল্টো লেবাননের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে নজরদারি ও বোমাবর্ষণ বাড়িয়েছে।

জনস্বাস্থ্য ও উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, হামলার কারণে দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দারা, যারা ঈদের ছুটির মাঝে নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছিলেন, তারা আবারও চরম আতঙ্ক ও বাস্তুচ্যুতির মুখে পড়েছেন। অনেক এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে গিয়েও ইসরায়েলি ড্রোন নজরদারির কারণে বেগ পেতে হচ্ছে।

চুক্তি টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ ও মার্কিন নীরবতা:

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ইসরায়েলের এমন বড় ধরনের সামরিক অভিযান চুক্তিটির কার্যকারিতাকে মারাত্মক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। হিজবুল্লাহ এখন পর্যন্ত এই হামলার বিপরীতে বড় কোনো পাল্টা জবাব না দিলেও, ইসরায়েলি আগ্রাসন এভাবে চলতে থাকলে চুক্তিটি যেকোনো মুহূর্তে পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো কঠোর অবস্থান বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।



Leave a Comment