ইরান চুক্তি নিয়ে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের রুদ্ধদ্বার আলোচনা, মেলেনি চূড়ান্ত সই

মে ৩০, ২০২৬ | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সাথে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত একটি সমঝোতা চুক্তি নিয়ে হোয়াইট হাউজে নিজের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা সহযোগীদের সাথে দীর্ঘ দুই ঘণ্টাব্যাপী এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও এই সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন দেননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনের বরাতে আজ শনিবার (৩০ মে) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হোয়াইট হাউজের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সূত্রে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প তাঁর ‘রেডলাইন’ বা শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং ইরানের পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে সই করবেন না।

সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্পের ‘ can-do’ বার্তা:

এর আগে গতকাল শুক্রবার পরিবর্তনের অংশ হিসেবে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, “ইরানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে একটি ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার জন্য আমি এখন হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে বসছি।”

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে সাফ জানিয়ে দেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হবে— ইরানকে অবশ্যই এই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনোই কোনো পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করবে না। এছাড়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করতে হবে এবং সেখানে পাতা সমস্ত সামুদ্রিক মাইন ধ্বংস করতে হবে।

কী আছে এই সম্ভাব্য চুক্তিতে?

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, এই সমঝোতা স্মারকটি মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানোর একটি রূপরেখা। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, দুই পক্ষই চুক্তির একেবারে দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

চুক্তির খসড়া অনুযায়ী:

ইরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী থেকে সব মাইন অপসারণ করতে হবে এবং তারা এই জলপথে কোনো ধরনের শুল্ক আরোপ করতে পারবে না। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে তেহরানকে নতুন করে আলোচনায় বসতে হবে। গত বছর মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনার নিচে চাপা পড়ে থাকা পরমাণু সামগ্রীগুলো আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং মার্কিন যৌথ সমন্বয়ে খনন করে ধ্বংস করা হবে।

এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে শিথিল করবে, যাতে ইরান বিশ্ববাজারে আরও বেশি জ্বালানি তেল বিক্রি করতে পারে।

চুক্তি নিয়ে ইরানের অবস্থান ও সংঘাতের শঙ্কা:

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরান চুক্তির সাধারণ শর্তগুলোর খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও বেশ কিছু শব্দের মারপ্যাঁচ ও ভাষার পয়েন্ট নিয়ে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে দরকষাকষি চলছে।

অন্যদিকে, ইরান এই চুক্তিকে এখনও চূড়ান্ত বলে মানতে নারাজ। ইরানের প্রধান পরমাণু আলোচক এবং দেশটির মজলিসের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “আমেরিকার কোনো গ্যারান্টি বা কথার ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই, আমরা কেবল তাদের অ্যাকশন বা কাজ দেখব। অপর পক্ষ পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো পদক্ষেপ নেব না।” তিনি হুংকার দিয়ে আরও বলেন, “আমরা আলোচনার মাধ্যমে কোনো ছাড় পাই না, আমাদের শক্তি আসে ক্ষেপণাস্ত্র থেকে।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই-ও জানিয়েছেন, চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং ইরান এই মুহূর্তে কেবল যুদ্ধ অবসানের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে, পারমাণবিক বিশদ বিবরণ নিয়ে নয়।



Leave a Comment