শেষ হলো হজের আনুষ্ঠানিকতা: রাত থেকে শুরু হচ্ছে ফিরতি হজ ফ্লাইট

মে ৩০, ২০২৬ | জাতীয় |

নিজস্ব প্রতিবেদক: তিন জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে শেষ হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। হজের সব ধর্মীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করে এবার আল্লাহর মেহমানরা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। আজ শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাত থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ফিরতি হজ ফ্লাইট কার্যক্রম।

সৌদি আরবের স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) রাত ১২টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ‘এসভি-৫৮০৬’ ফ্লাইটের মাধ্যমে প্রথম ব্যাচের বাংলাদেশি হাজিরা দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ফিরতি যাত্রার প্রথম দিনেই ১৩টি বিশেষ ফ্লাইটে মোট ৫ হাজার ৪৩৪ জন হাজি বাংলাদেশে ফিরবেন বলে নিশ্চিত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

রেকর্ড শতভাগ হজযাত্রী পরিবহন:

এর আগে গত ১৭ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী বহনকারী সর্বশেষ ফ্লাইটটি গত ২১ মে সৌদি আরবে পৌঁছায়। সূচি অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই ফিরতি হজ ফ্লাইট কার্যক্রম সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বছর সৌদি সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই হজযাত্রীদের তাঁবু ভাড়া, পরিবহন চুক্তি, মানসম্মত আবাসন এবং ভিসাসহ সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করেছিল ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের কারণে কোনো ধরনের বড় সময়সূচি বিপর্যয় বা ফ্লাইট জটিলতা ছাড়াই নিবন্ধিত শতভাগ হজযাত্রী নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

সব কৃতিত্ব আল্লাহর অনুগ্রহ: ধর্মমন্ত্রী

হজের সার্বিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৌদি আরবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, “মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও দয়ার কারণেই এবারের হজ অত্যন্ত সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সফলতার কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; বরং এটি সম্পূর্ণ মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।”

ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক দল, প্রশাসনিক টিম এবং হজ সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই হাজিদের সেবার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে এবার হাজিদের জন্য বিনামূল্যে লাগেজ র‍্যাপিং, বিমানবন্দরগুলোতে বিশুদ্ধ পানিসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আরাফা ও মিনা ময়দানে বাংলাদেশি হাজিদের মাঝে সরকারি উদ্যোগে জুস বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়।

আগামীতে ব্যয় ও ভোগান্তি কমানোর আশ্বাস:

আগামী বছরের হজ ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত ও আধুনিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “হাজিদের ভোগান্তি চিরতরে দূর করতে কিছু হজ প্যাকেজ এবং নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি এজেন্সির কার্যক্রম নতুন করে কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে হজের সামগ্রিক ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নামিয়ে আনার বিষয়েও সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।” তিনি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাজকীয় কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

সমন্বিত প্রচেষ্টার সফল ফল: হাব

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, “এবারের হজ ব্যবস্থাপনা ছিল বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সফল। কোনো ধরনের বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই হাজিরা হজের সব রীতিনীতি সম্পন্ন করতে পেরেছেন, যা সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।” সরকার, ধর্ম মন্ত্রণালয়, সৌদি কর্তৃপক্ষ, এয়ারলাইন্স এবং বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর মধ্যকার চমৎকার সমন্বয়ের কারণেই হাজিরা নির্বিঘ্নে এই ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পেরেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।



Leave a Comment