কুয়েত-বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, প্রতিহত করল মার্কিন বাহিনী

জুন ৬, ২০২৬ | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া ইরানের একাধিক শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। অপরদিকে লেবাননজুড়ে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর ভয়াবহ বোমাবর্ষণ ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আজ শনিবার (৬ জুন) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

কুয়েত-বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, প্রতিহত করল ইউএস সেন্টকম:

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (US Central Command) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে কুয়েত এবং বাহরাইনের দিকে মোট ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ডেসিমাল বা পঞ্চম নৌবহরের (Fifth Fleet) সদরদপ্তর এবং কুয়েতের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো চালানো হয়। তবে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝআকাশে সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট বা প্রতিহত করা হয়েছে।

কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বুধবারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ১ জন নিহত ও ৬০ জনের বেশি আহত হওয়ার পর আজ পুনরায় এই হামলা চালানো হলো।

ইউএস হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাত:

ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) এই হামলার দায় স্বীকার করে একে ‘স্বার্থরক্ষা ও প্রতিশোধমূলক’ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে। ইরানের দাবি, পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে তাদের একটি তেলের ট্যাংকারে মার্কিন হামলা এবং দেশের গোরুক ও কেশম (Qeshm) দ্বীপের সামরিক রাডার ও যোগাযোগ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার সরাসরি জবাব হিসেবে তারা এই ক্ষেপণাস্ত্রসমূহ উৎক্ষেপণ করেছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের ভূখণ্ড বা স্বার্থে পুনরায় আঘাত করা হলে এর চেয়েও ভয়ংকর জবাব দেওয়া হবে।

লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন ও যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যখন পারস্য উপসাগরে এই সংঘাত চলছে, ঠিক তখনই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং বৈরুতের উপকণ্ঠে বিধ্বংসী বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। ওয়াশিংটনে মার্কিন মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া তৈরি হলেও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহর দাবি, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননে লিটানি নদীর অববাহিকা থেকে তাদের সরে যাওয়া এবং সেখানে ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে ‘নিরাপত্তা জোন’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। হিজবুল্লাহর এই অনড় অবস্থানের পর ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো লেবাননের সরাফান্দ ও তায়ার (টির) শহরসহ বিভিন্ন বেসামরিক জনপদে নতুন করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করেছে, যাতে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

মন্থর কূটনৈতিক আলোচনা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি:

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের সাথে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ওয়াশিংটনের আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে’ এবং প্রতিদিন দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ হচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসনের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান বা বাস্তব কোনো অগ্রগতি (Tangible progress) অর্জিত হয়নি। হরমুজ প্রণালী ও লেবাননসহ সব ফ্রন্টে মার্কিন-ইসরাইলি aggression বা আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।



Leave a Comment