নোয়াখালীতে পৃথক বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু

নোয়াখালীর তিন উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও শিশুসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন— সুবর্ণচরের তানজিলা আক্তার (১৭), কবিরহাটের মো. আয়মান (৯) এবং হাতিয়ার ব্যবসায়ী আরাফাত (২১)।

সুবর্ণচরে মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যু
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চরআমান উল্যাহ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে বজ্রপাতে নিহত হয় তানজিলা আক্তার। সে স্থানীয় ইসমাইল ফাজিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। সকালে বাড়ির পাশে হাঁটার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, তানজিলা অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। গত বছর দাখিল পরীক্ষায় পুরো সুবর্ণচর উপজেলা থেকে যে দুইজন জিপিএ-৫ পেয়েছিল, তানজিলা ছিল তাদের একজন। তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চরজব্বর থানার ওসি লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

কবিরহাটে খেলার মাঠে প্রাণ গেল শিশুর
এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের চর মন্ডলিয়া গ্রামে বজ্রপাতে নিহত হয় শিশু মো. আয়মান। নিজ বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় বজ্রপাতের শিকার হলে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। আয়মান ওই এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে।

হাতিয়ায় মায়ের সামনেই ব্যবসায়ীর মৃত্যু
একই দিন দুপুরে হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব গামছাখালী গ্রামে মাঠ থেকে বাদাম তুলে ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান ব্যবসায়ী আরাফাত। স্বজনরা জানান, নিজের চোখের সামনে ছেলেকে বজ্রপাতে ঝলসে যেতে দেখেন তার মা। হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বজ্রপাতের এই তান্ডবে জেলায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। আবহাওয়া অফিস ও স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে মেঘলা আকাশ বা বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ পরিহার করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।



Leave a Comment