তারেক রহমান দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে রক্ষা করেছেন: মির্জা ফখরুল
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধ্বংসপ্রায় রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন করে দেশকে রক্ষা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তারেক রহমান কেবল একজন প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি আজ এ দেশের মেহনতি মানুষের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ও রাষ্ট্র সংস্কার
মির্জা ফখরুল বলেন, “তারেক রহমান মানুষের হৃদয় জয় করে একের পর এক সাফল্য অর্জন করছেন। তিনি ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ কর্মসূচির মাধ্যমে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলছেন। বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক ও অর্থনীতি যেভাবে ধ্বংস হয়েছিল, তিনি তা পরিকল্পিতভাবে পুনর্গঠন করেছেন। গতকাল সংসদে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন, তা একজন সত্যিকারের দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের পরিচয় বহন করে।”
শ্রমিকদের কল্যাণে নতুন দিগন্ত
শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন:
ন্যূনতম মজুরি: বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে শ্রমিকদের জন্য সম্মানজনক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: শ্রমিক সন্তানদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের কথা বলেন।
হকার পুনর্বাসন: হকারদের উচ্ছেদ না করে পরিকল্পিতভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গণতান্ত্রিক উত্তরাধিকার
বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমান এমন এক নেতা ও নেত্রীর (শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া) সন্তান যারা আজীবন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের লড়াই করেছেন। তিনি সেই সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
মির্জা ফখরুল বিগত দিনের আন্দোলনে প্রাণ হারানো সকল শ্রমিক নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের রক্তের বিনিময়েই আজ দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হয়েছে।
সমাবেশে উপস্থিতি:
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক দলের বিভিন্ন ইউনিটের প্রতিনিধি এবং হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ অংশ নেন। মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাবেশে পুরো নয়াপল্টন এলাকা নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।