শ্রমিকদের রক্তে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে : মুহাম্মদ শাহজাহান
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা অবিস্মরণীয় এবং তাদের রক্তেই ফ্যাসিবাদের পতন ত্বরান্বিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা উৎখাতে শ্রমিকরাই রাজপথে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘বিপ্লবের পর ষড়যন্ত্র চলছে’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “শ্রমিকদের অবদান ছাড়া কোনো সভ্যতা টিকে থাকতে পারে না। অথচ বাংলাদেশে শ্রমিকদের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের বড় অংশই শ্রমজীবী মানুষ।” তিনি বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, “বিপ্লবের পর আমরা সুশাসনের প্রত্যাশা করেছিলাম, কিন্তু বর্তমান সরকার দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে শ্রমিকরা আবারও নতুন আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।”
‘কলকারখানা বন্ধ করে শ্রমিকদের বেকার করা হয়েছে’
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার সরকারি কলকারখানা বন্ধ করে লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে বেকার করেছে এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। শ্রমিকদের বাদ দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়।”
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “ছাত্রদের শুরু করা আন্দোলন শ্রমিকদের অংশগ্রহণেই সফল হয়েছে। অথচ আজও কলকারখানার কর্মপরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
রেশনিং ও পেনশনের দাবি
বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস কে খোদা তোতন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে সকল শ্রমিকের জন্য পেনশন স্কিম ও রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। অন্যদিকে, চসিক মেয়র পদপ্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক স্থাপনের ওপর জোর দেন।
সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন:
কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, সাধারণ সম্পাদক, শ্রমিক দল, চট্টগ্রাম বিভাগ।
আবু তালেব চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক, নগর ফেডারেশন।
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সেক্টর ও নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অবিলম্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালু এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।