বন্দর শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন ও স্বতন্ত্র পে-স্কেল নিশ্চিত করতে হবে: লুৎফর রহমান

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান বলেছেন, দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। অবিলম্বে বন্দর শ্রমিকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের স্বতন্ত্র পে-স্কেল প্রণয়নসহ সকল ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে হবে।

আজ শনিবার (২ মে) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর স্থানীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক সংঘের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে বন্দর খাতে কর্মরত শ্রমিকদের বেতন, ভাতা ও নিরাপত্তা এখনো উপেক্ষিত। বন্দরকে গতিশীল রাখতে শ্রমিকদের জন্য ৯০ দিনের ইনসেনটিভ বোনাস এবং প্রতি বছর বন্দর দিবসে প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের ১০ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সমভাবে বণ্টন করতে হবে।”

বন্দর ইজারা ও নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিকট ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে থাকা প্রায় ৪০০০ পদে দ্রুত নিয়োগ না দিলে কাজের চাপ বাড়বে এবং শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। তাই অবিলম্বে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।

ইসলামী শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নগর ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মকবুল আহমদ ভূঁইয়া। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. রবিউল হাসান, রেজাউল করিম সেলিম, মো. শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম ভূঁইয়া, মো. আমান উল্লাহ, বাহলুল উদ্দিন, জামাল হোসেন খান, আইন আদালত সম্পাদক আতিক উল্লা কায়ছার ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো. হারুনর রশীদ হেলালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।



Leave a Comment