গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার সকালে জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু এবং বাকি দুজন তাদের মা ও মামা বলে জানা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনাস্থলের চিত্র
সরেজমিনে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার তিন শিশুর মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল। শিশুদের মামার মরদেহ পাওয়া গেছে খাটের ওপর। সবচেয়ে বীভৎস অবস্থায় ছিলেন শিশুদের মা; তার মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রত্যেককেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই কাপাসিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। তিনি বলেন:

“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। মা ও তিন শিশুসহ মোট পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) একাধিক সংস্থা কাজ করছে।”

এলাকায় আতঙ্ক
একই পরিবারের পাঁচজনকে এভাবে ঘরের ভেতর কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো সাধারণ ডাকাতি নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা দ্রুত উদঘাটন করে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।



Leave a Comment