দরুদ শরিফ মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। বিশেষ করে “দরুদে ইব্রাহিম” নামাজের শেষ বৈঠকে পাঠ করা হয় এবং এটি রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের অন্যতম উত্তম মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা নিজেই কুরআনে দরুদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ কর।”
— সূরা আল-আহযাব : ৫৬
দরুদে ইব্রাহিম
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ،
اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
অর্থঃ
“হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ﷺ ও তাঁর পরিবারের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, যেমন রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পরিবারের প্রতি। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ﷺ ও তাঁর পরিবারের প্রতি বরকত দান করুন, যেমন বরকত দান করেছেন ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পরিবারের প্রতি। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।”
দরুদে ইব্রাহিমের ফজিলত
১. আল্লাহর রহমত লাভ হয়
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাযিল করেন।”
— সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪০৮
দরুদ পাঠের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর বিশেষ রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভ করে।
২. গুনাহ মাফ হয় ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার দশটি গুনাহ মাফ করেন, দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেন।”
— সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১২৯৭
৩. দোয়া কবুলের অন্যতম মাধ্যম
হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন—
“দোয়া আসমান ও জমিনের মাঝে ঝুলে থাকে, যতক্ষণ না নবী ﷺ–এর ওপর দরুদ পাঠ করা হয়।”
— জামে তিরমিজি, হাদিস : ৪৮৬
অতএব, দোয়ার শুরু ও শেষে দরুদ পাঠ করা দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ আদব।
৪. কিয়ামতের দিন রাসূল ﷺ–এর নিকটবর্তী হওয়ার মাধ্যম
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“কিয়ামতের দিন আমার নিকটতম ব্যক্তি হবে সে, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করেছে।”
— জামে তিরমিজি, হাদিস : ৪৮৪
৫. দুঃখ-কষ্ট দূর হয়
হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম—
“হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে চাই।”
তখন রাসূল ﷺ বললেন—
“তাহলে তোমার দুশ্চিন্তা দূর করা হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে।”
— জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৪৫৭
৬. রাসূল ﷺ–এর শাফাআত লাভের আশা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সঙ্গে আমার ওপর দরুদ পাঠ করে, সে আমার শাফাআত লাভের অধিক হকদার হবে।”
— আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি
দরুদ পাঠের উত্তম সময়
নামাজের শেষ বৈঠকে
আযানের পর
জুমার দিন ও জুমার রাতে
দোয়ার আগে ও পরে
সকাল-সন্ধ্যায়
রাসূল ﷺ–এর নাম শুনলে
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ কর।”
— সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭
উপসংহার
দরুদে ইব্রাহিম শুধু নামাজের একটি অংশ নয়; বরং এটি আল্লাহর রহমত লাভ, গুনাহ মাফ, দোয়া কবুল এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর ভালোবাসা অর্জনের এক মহামূল্যবান আমল। তাই প্রতিদিন বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


