দীর্ঘ ৯ বছরের ব্যবধান ঘুচিয়ে আবারও চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৩ মে) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেইজ অ্যান্ড্রুস থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ রওয়ানা দিয়েছে। দুই পরাশক্তির বিদ্যমান বিরোধ নিরসন ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরের সূচি ও রাজকীয় সংবর্ধনা:
মার্কিন প্রেস সচিব অ্যানা কেলি জানিয়েছেন, বুধবার (১৩ মে) বেইজিং পৌঁছানোর পর ট্রাম্পকে এক রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সফরের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প। বৈঠক শেষে তিনি ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অফ হেভেন’ পরিদর্শন করবেন এবং শি জিনপিংয়ের দেওয়া রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নেবেন।
সঙ্গী হচ্ছেন কর্পোরেট জায়ান্টরা:
এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল থাকছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, এই দলে রয়েছেন:
ইলন মাস্ক: প্রধান নির্বাহী, টেসলা।
টিম কুক: প্রধান নির্বাহী, অ্যাপল।
কেলি অর্টবার্গ: শীর্ষ নির্বাহী, বোয়িং।
ল্যারি কাল্প: প্রধান নির্বাহী, জিই অ্যারোস্পেস।
আলোচনার কেন্দ্রে অর্থনীতি ও যুদ্ধ:
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক বিরোধ নিরসনের বড় সুযোগ। বর্তমানে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি চীনের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় বেইজিং এই যুদ্ধের দ্রুত অবসান চায়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে বাণিজ্য শুল্ক এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
নিরাপত্তার চাদরে বেইজিং:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগমনকে কেন্দ্র করে বেইজিংজুড়ে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঐতিহাসিক তিয়ানআনমেন স্কয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে নতুন করে সাজানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত তিন অঙ্কের শুল্ক স্থগিত করেছিলেন।


