পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আজ রবিবার (১০ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনে কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) রহস্যজনক ড্রোন অনুপ্রবেশ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর অভিযোগ:
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার জানিয়েছে—আবুধাবি থেকে আসা একটি মালবাহী জাহাজ তাদের জলসীমায় ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে, কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ভোরে তাদের আকাশসীমায় বেশ কিছু ‘শত্রুভাবাপন্ন’ ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যা তারা নিয়ম অনুযায়ী প্রতিহত করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরাসরি ইরানকে দায়ী করে বলেছে, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে। তবে ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে অভিহিত করেছে।
যুদ্ধবিরতিতে টানাপোড়েন:
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। সম্প্রতি এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার লক্ষ্যে একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে নতুন করে এই হামলাগুলো সেই আলোচনাকে ভেস্তে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা তৈরির জন্য ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তিতে’ পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেছেন।
ইরানের অবস্থান:
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়নি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তারা কোনো দেশের ওপর হামলা করেনি। যদি কোনো হামলা হয়ে থাকে, তবে তা ‘জায়নবাদী শত্রু’ বা তৃতীয় কোনো পক্ষের কাজ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতামত:
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষেরই এক ধরণের নৌ-অবরোধ চলছে। এর ফলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তিত হয়ে পড়েছে এবং তারা তুরস্ক ও কাতারের মাধ্যমে কূটনীতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে নাকি অঞ্চলটি বড় কোনো যুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর।


