জুলাই সনদে ফিরুন, চাটুকারদের বেষ্টনী থেকে বের হন: সরকারকে কর্নেল অলি

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক সংস্কার ও বৈষম্য দূর করা। বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চাইলেও আমরা আগে বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়েছি।”

রবিবার (১০ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংকট:

কর্নেল অলি আহমদ বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদকে বৈধতা দিয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে আসায় বর্তমানে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নীতি-নৈতিকতা ও জনসমর্থন ছাড়া শুধু ইচ্ছা করলেই ক্ষমতায় থাকা যায় না। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়।

পশ্চিমবঙ্গ ও সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রসঙ্গ:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। এরপর থেকেই সেখানে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান।

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি:

প্রধানমন্ত্রী চাটুকারদের বেষ্টনীতে আবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জনগণের ইচ্ছার প্রতি ফিরে আসুন। খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের মর্যাদা রক্ষা করুন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে, খুনখারাবি বাড়ছে—এসবের দিকে মনোযোগ দিন।” দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হলে সরকার তা সামাল দিতে পারবে না এবং বিরোধী দলও তখন বসে থাকবে না।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন:

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। বক্তারা গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধের জোর দাবি জানান।

Facebook
X
Telegram
WhatsApp
Email
Print

সর্বশেষ সংবাদ