দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ তার চূড়ান্ত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে।
রোববার মস্কোর রেড স্কয়ারে এক ভাষণে পুতিন বলেন, “রাশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার সিংহভাগই অর্জিত হয়েছে। আমরা এখন একটি স্থিতিশীল এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথে হাঁটতে প্রস্তুত।”
কৌশলগত পরিবর্তন নাকি জয়?
বিশ্লেষকরা পুতিনের এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতিকে আমূল বদলে দিয়েছে। পুতিনের আজকের এই বক্তব্যে আগের মতো কঠোর হুঙ্কার ছিল না, বরং তার কণ্ঠে একটি কূটনৈতিক সমঝোতার সুর পাওয়া গেছে।
পুতিন বলেন, “আমাদের সেনাবাহিনী ডনবাস এবং নতুন অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সংহত করেছে। এখন আলোচনার টেবিলই হতে পারে পরবর্তী ধাপ, তবে অবশ্যই রাশিয়ার জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে।”
কিয়েভ ও পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিক্রিয়া:
পুতিনের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও, কিয়েভের শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ইউক্রেনের একজন মুখপাত্র বলেন, “রাশিয়া অতীতেও অনেকবার আলোচনার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করেছে। আমরা কেবল তখনই যুদ্ধের সমাপ্তি মানব, যখন আমাদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত থেকে শেষ রুশ সৈন্যটি বিদায় নেবে।”
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন এবং ব্রাসেলস থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা পুতিনের মন্তব্য পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো শর্তে তারা সায় দেবে না।
শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা:
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আগামী মাসে তুরস্ক বা কাতারে একটি উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে। এবারের আলোচনায় ড্রোন হামলা বন্ধ, বন্দি বিনিময় এবং সীমান্তের একটি ‘বাফার জোন’ তৈরির বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেতে পারে।
অর্থনৈতিক প্রভাব:
পুতিনের এই ইতিবাচক ইঙ্গিতের পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে এবং রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের মান শক্তিশালী হতে দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটলে বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংকট দূর হবে।
তবে যুদ্ধ শেষ হলেও রাশিয়ার ওপর আরোপিত কয়েক হাজার পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


