হাতিয়া উপজেলার জেলে ছৈয়দ আহাম্মদ। আজ থেকে ৫৪ বছর আগে ২৯ বছর বয়সে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে যাকে মৃত ভেবে পরিবার ভুলেই গিয়েছিল, সেই মানুষটিই ৮৩ বছর বয়সে ফিরে এলেন নিজ ভিটায়। গত মঙ্গলবার (৫ মে) হাতিয়া পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের পাঁচবিঘা গ্রামের বাড়িতে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যেভাবে নিখোঁজ ও ভারতে অবস্থান:
পরিবার জানায়, প্রায় ৫ দশক আগে কুতুবদিয়া উপকূলে ট্রলারডুবির পর কোনোভাবে ছৈয়দ আহাম্মদ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন এলাকায় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জীবন কাটান তিনি। সম্প্রতি ভারতের হাওড়া স্টেশনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়লে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাঁকে উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিএসএফ তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।
পরিচয় শনাক্ত ও আবেগঘন পরিবেশ:
গত মঙ্গলবার দুপুরে নিজ গ্রামে পৌঁছালে প্রথমে তাঁকে নিয়ে বিস্ময় তৈরি হয়। পরে স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ও স্বজনরা তাঁর শৈশবের স্মৃতি ও শারীরিক চিহ্ন দেখে তাঁকে শনাক্ত করেন। ৫৪ বছর পর প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে স্বজনদের চোখে আনন্দাশ্রু দেখা দিলেও গ্রামজুড়ে বইছে কৌতূহলী মানুষের ভিড়।
ফিরে আসায় আইনি ও পারিবারিক জটিলতা:
দীর্ঘদিন পর ফিরে আসার এই আনন্দ ছাপিয়ে এখন পরিবারে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। জমিজমা ও পারিবারিক সম্পদ নিয়ে বিরোধের আশঙ্কায় গত শুক্রবার (৮ মে) হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ছৈয়দ আহাম্মদের ছেলে মো. আকরাম (৫৩)।
ছেলের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্য:
ছেলে আকরামের দাবি, তাঁর বাবা ফিরে আসার পর তাঁর চাচাতো ভাইয়েরা বাবাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিয়েছেন এবং তাঁর কাছে আসতে দিচ্ছেন না। পারিবারিক সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই বাবাকে আটকে রাখা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, “বৃদ্ধের ছেলে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বাবার হেফাজত নিয়ে তাঁর আপন ছেলে এবং চাচাতো ভাইদের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি এবং সামাজিক ও আইনিভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
নিখোঁজ হওয়ার ৫৪ বছর পর ছৈয়দ আহাম্মদের এই প্রত্যাবর্তন যেমন বিষ্ময়কর, তেমনি সম্পত্তির অধিকার নিয়ে শুরু হওয়া এই দ্বন্দ্ব এলাকার মানুষের মুখে মুখে এখন আলোচনার মূল বিষয়।


