‘যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে’: শেখ হাসিনার নির্দেশের প্রমাণ পাওয়ার দাবি চিফ প্রসিকিউটরের

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মারণাস্ত্র (লেথাল ওয়েপন) ব্যবহার করে ‘সোজা গুলি করার’ নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

রোববার (১০ মে) ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

তদন্তে যা পাওয়া গেছে:

চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে শেখ হাসিনা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের মধ্যকার একটি কথোপকথনের রেকর্ড পাওয়া গেছে। সেখানে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, “আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে।”

আমিনুল ইসলাম বলেন, একজন সরকারপ্রধান হিসেবে এমন নির্দেশনা ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ। এর ফলেই সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় এবং হাজারো মানুষ প্রাণ হারান।

মোহাম্মদপুর হত্যাকাণ্ডে ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ:

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ছিল কিশোর ফাইয়াজকে নির্মমভাবে হত্যা। এই ঘটনায় পুরো বাংলাদেশ আবেগাপ্লুত হয়েছিল।”

মামলার পরবর্তী কার্যক্রম:

তদন্তে এই মামলায় ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়), ‘ইন্ডিভিজুয়াল রেসপনসিবিলিটি’ (ব্যক্তিগত দায়) ও ‘টার্গেটেড কিলিং’ বা পরিকল্পিত হত্যার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করায় আগামী ৮ জুন থেকে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত পুনর্গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে এটি অন্যতম একটি বড় মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Facebook
X
Telegram
WhatsApp
Email
Print

সর্বশেষ সংবাদ