ইরানের জবাব ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’, প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে ইরান যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ সোমবার (১১ মে) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই প্রত্যাখ্যানের ফলে অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বড় ধরনের হোঁচট খেল।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া:

সোমবার সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি এটি পছন্দ করিনি—সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য (Unacceptable)।” যদিও তিনি ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের ঠিক কোন অংশটি অপছন্দ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরান এমন কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে যা বর্তমান বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

ইরানের প্রস্তাবের মূল দিকগুলো:

রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান যে পাল্টা প্রস্তাব পাঠিয়েছিল তাতে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। এছাড়া তেহরান দাবি করেছে যে, যেকোনো শান্তি চুক্তির আগে পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে এবং ইরানের তেল বিক্রির ওপর থাকা সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নিতে হবে। বিশেষ করে লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলি হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধের গ্যারান্টি চেয়েছে ইরান।

তেল বাজারে অস্থিরতা:

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৩ ডলার বেড়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন যে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় বিঘ্ন ঘটাবে।

চীন সফর ও ইরান ইস্যু:

রয়টার্স আরও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে চীন সফরে যাচ্ছেন। বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরান সংকট সমাধানের বিষয়টি শীর্ষ এজেন্ডায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ইরান অর্থনৈতিকভাবে ‘পরাজিত’ হলেও তারা এখনও তাদের জেদ ধরে রেখেছে।

নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি:

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরান যতক্ষণ না তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করছে, ততক্ষণ কোনো অর্থহীন শান্তি প্রস্তাবে ইসরায়েল সায় দেবে না। রয়টার্সের মতে, ইসরায়েলের এই কঠোর অবস্থানও ট্রাম্পকে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে প্রভাবিত করেছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং কূটনীতিকরা একটি নতুন সংকটের আশঙ্কা করছেন।

Facebook
X
Telegram
WhatsApp
Email
Print

সর্বশেষ সংবাদ