কারামুক্ত হলেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা

দীর্ঘ ১৫ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর কারাদণ্ড ভোগ করা থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার (১১ মে) সকালে তিনি রাজধানী ব্যাংককের একটি পুলিশ হাসপাতাল থেকে মুক্তি পান, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারাভোগ করছিলেন।

মুক্তির মুহূর্ত: আল জাজিরা জানায়, সোমবার ভোরে একটি কালো রঙের গাড়িতে করে থাকসিনকে হাসপাতাল ছাড়তে দেখা যায়। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন মেয়ে প্যাতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। তাঁর গায়ে ছিল একটি হলুদ শার্ট এবং গলায় ছিল মেডিকেল ব্রেস (ঘাড়ের সুরক্ষা বন্ধনী)। হাসপাতালের বাইরে ভিড় করা সংবাদমাধ্যম কর্মীদের সাথে কোনো কথা না বলেই তিনি তাঁর ব্যাংককের বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

কেন মুক্তি পেলেন? থাইল্যান্ডের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ৭৪ বছর বয়সী থাকসিনের বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি দুর্নীতির দায়ে আট বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে কমিয়ে এক বছরে আনা হয়েছিল। মোট সাজার ছয় মাস পার হওয়ার পর তিনি এই মুক্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: থাকসিন সিনাওয়াত্রা থাইল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় ও বিতর্কিত নেতা। ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০০৮ সালে তিনি দেশ ছাড়েন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর গত বছরের আগস্টে তিনি নাটকীয়ভাবে থাইল্যান্ডে ফিরে আসেন। তাঁর প্রত্যাবর্তনের পরপরই তাঁর দল ‘ফেউ থাই’ (Pheu Thai) দেশটির বর্তমান জোট সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, থাকসিনের এই মুক্তি থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। যদিও আইনিভাবে তাঁর সরাসরি কোনো পদে থাকার বাধা রয়েছে, তবুও পর্দার আড়াল থেকে তিনি বর্তমান সরকারের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Facebook
X
Telegram
WhatsApp
Email
Print

সর্বশেষ সংবাদ