পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করেছে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত রবিবার (১০ মে) রাতে উত্তর প্রদেশ থেকে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার:
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরে ঘাতকদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি টোল প্লাজায় ‘ইউপিআই’ (UPI)-এর মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছিল। সেই ডিজিটাল ক্লু ধরে সিআইডি উত্তর প্রদেশে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন ‘শার্প শুটারকে’ গ্রেপ্তার করে। তাদের রাতেই কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং আজ সোমবার বারাসত আদালতে তোলা হবে।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট:
গত ৬ মে রাতে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যমগ্রামে হামলার শিকার হন চন্দ্রনাথ রথ। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের ঠিক আগেই দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি চালায়। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:
দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করা চন্দ্রনাথের এই মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে দেখছেন বিজেপি নেতারা। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, এই খুনের পেছনে আন্তঃরাজ্য কোনো পেশাদার অপরাধী চক্র জড়িত।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’কে খুঁজে বের করাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য। এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।


