গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশ নিষিদ্ধ: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ এবং তা প্রকাশ বন্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে এখন থেকে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে, তা কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না। আজ সোমবার (১১ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ের ১৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ের মূল পর্যবেক্ষণ:
আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশ করা স্পষ্টত নারীর প্রতি বৈষম্য। এটি কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয় এবং সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে, যা আমাদের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। এ ধরনের অনৈতিক চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ:
আদালত বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ভ্রূণের লিঙ্গ পরীক্ষার বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিতার অভাব ছিল। রায়ে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, শুধু একটি গাইডলাইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয় না। ডিজিটাল নজরদারি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

নির্দেশনা ও বাস্তবায়ন:
পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত এই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন, যার পূর্ণাঙ্গ রূপ আজ প্রকাশ পেল।

আইনজীবীরা মনে করছেন, এই রায়ের ফলে কন্যাশিশু ভ্রূণ হত্যার মতো সামাজিক ব্যাধি রোধে একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি তৈরি হলো।

Facebook
X
Telegram
WhatsApp
Email
Print

সর্বশেষ সংবাদ