চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক গোপন হামলা চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তেল শোধনাগারে হামলা:
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলের শুরুর দিকে ইরানের লাভান দ্বীপে (Lavan Island) অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালায় আমিরাত। এই হামলার ফলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং শোধনাগারটি অকেজো হয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, যে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই এই গোপন অভিযানটি চালানো হয়।
পাল্টাপাল্টি আক্রমণ:
আমিরাতের এই হামলার জবাবে ইরানও চুপ করে থাকেনি। তেহরান আমিরাত ও কুয়েতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু অভিমুখে ব্যালেস্টিক মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপ করে পাল্টা প্রতিশোধ নিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান ইসরায়েলের চেয়েও বেশি আক্রমণ চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর। এখন পর্যন্ত ২,৮০০টিরও বেশি মিসাইল ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে উপসাগরীয় এই দেশটি।
আমিরাতের কৌশলগত পরিবর্তন:
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত আমিরাত সাধারণত সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলত। তবে ইরানের অব্যাহত হামলায় দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আবু ধাবির কৌশলগত অবস্থানে বড় পরিবর্তন এসেছে। আমিরাত এখন ইরানকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও তাদের অর্থনৈতিক মডেলের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন সমর্থন:
একটি সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো আরব দেশ সরাসরি ইরানের ওপর হামলা চালানোয় যুক্তরাষ্ট্র পর্দার আড়াল থেকে আমিরাতের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাত সরাসরি যুদ্ধের পক্ষ নেওয়ায় ইরান এখন চেষ্টা করবে আরব দেশগুলোর মধ্যকার ঐক্য বিনষ্ট করতে, যারা এই যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছিল।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সুনির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে যে, যেকোনো বৈরী আচরণের জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার আবু ধাবির রয়েছে।


