ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে এবার বেইজিংয়ের দ্বারস্থ ট্রাম্প

ইরানের সাথে একটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন চীনের দিকে নজর দিয়েছেন। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধার এবং একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক ‘জয়’ হাসিলের লক্ষ্যে তিনি চীন সফরে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও অভ্যন্তরীণ চাপ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সাথে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চড়া মূল্য নিয়ে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা এবং যুদ্ধের বিশাল ব্যয় মার্কিন অর্থনীতি ও জনমতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আগামী নির্বাচনের আগে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ট্রাম্পের জন্য এখন একটি বড় সাফল্যের প্রয়োজন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

চীন সফরের লক্ষ্য: একটি বড় ‘ডিল’
ট্রাম্পের এই চীন সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ও কৌশলগত বিরোধ মিটিয়ে একটি যুগান্তকারী চুক্তিতে পৌঁছানো। বিশ্লেষকদের মতে:

বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা: যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন বাজারকে চাঙ্গা করতে চীনের সাথে বাণিজ্য সহজীকরণ ট্রাম্পের প্রধান অগ্রাধিকার।

কৌশলগত বিজয়: ইরানের সাথে উত্তেজনার পর বেইজিংয়ের সাথে একটি সমঝোতা বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্পের প্রভাব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

বেইজিংয়ের অবস্থান
চীনের পক্ষ থেকে এই সফরকে সতর্কভাবে দেখা হচ্ছে। পেইচিং মনে করছে, ট্রাম্প এখন কিছুটা দুর্বল অবস্থানে আছেন, যা চীনের জন্য দর কষাকষিতে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে উভয় দেশই একটি সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

রাজনৈতিক ঝুঁকি
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, এই সফর ট্রাম্পের জন্য একটি ‘জুয়া’। যদি তিনি চীন থেকে কোনো বড় প্রতিশ্রুতি আদায় করতে না পারেন, তবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার অবস্থান আরও সংকটাপন্ন হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের যুদ্ধের ক্ষত ঢাকতে এই সফরকে তিনি তার ‘শান্তি ও সমৃদ্ধি’ এজেন্ডার অংশ হিসেবে প্রচার করছেন।

Facebook
X
Telegram
WhatsApp
Email
Print

সর্বশেষ সংবাদ