শিরিন আবু আকলেহ হত্যাকাণ্ড: বিচারের অভাব যেভাবে সংবাদমাধ্যমের ওপর ইসরায়েলি হামলাকে উসকে দিচ্ছে

আজ থেকে ঠিক চার বছর আগে, ২০২২ সালের ১১ মে জেনিন শরণার্থী শিবিরে সংবাদ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি স্নাইপারের গুলিতে নিহত হন আল জাজিরার প্রখ্যাত সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ। চার বছর পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি। মানবাধিকার কর্মী এবং গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, শিরিন হত্যাকাণ্ডের এই বিচারহীনতাই বর্তমানে গাজায় সংবাদকর্মীদের ওপর ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার পথ প্রশস্ত করেছে।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শিরিন আবু আকলেহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে জবাবদিহিতার আওতায় না আনায় ইসরায়েলি বাহিনী একটি ‘বিপজ্জনক বার্তা’ পেয়েছে। সেটি হলো—আন্তর্জাতিক প্রেস জ্যাকেট বা ‘PRESS’ লেখা হেলমেট পরিহিত থাকলেও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে পার পাওয়া সম্ভব। এই দায়মুক্তি বা বিচারহীনতার সংস্কৃতিই আজ গাজায় সাংবাদিকদের জন্য এক মৃত্যুপুরী তৈরি করেছে।

গাজায় সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৪০ জনেরও বেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ)-এর তথ্যমতে, এটি আধুনিক ইতিহাসের যেকোনো যুদ্ধের তুলনায় সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ সময়। শিরিন হত্যাকাণ্ডের বিচার হলে হয়তো আজ গাজার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক মহলের নীরবতা
শিরিন আবু আকলেহ একজন মার্কিন নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো স্বাধীন তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও শিরিনের পরিবার বারবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) হস্তক্ষেপ কামনা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এই নীরবতা ইসরায়েলকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বারবার আঘাত হানতে উৎসাহিত করছে।

সত্যের কণ্ঠরোধের চেষ্টা
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাংবাদিকদের ওপর এই পরিকল্পিত হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের ভয়াবহতার সঠিক চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া। শিরিন যেভাবে ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন, বর্তমান প্রজন্মের সাংবাদিকরাও সেই একই সাহসিকতা দেখাচ্ছেন। কিন্তু বিচারহীনতার এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চরম হুমকির মুখে পড়বে।

Facebook
X
Telegram
WhatsApp
Email
Print

সর্বশেষ সংবাদ