দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বহুল প্রতিক্ষিত ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই মেগা প্রকল্পসহ মোট ১৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্পের মূল তথ্য:
ব্যয় ও অর্থায়ন: সরকারের এই মাস্টারমাইন্ড প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে (জিওবি) বাস্তবায়িত হবে।
মেয়াদ: প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ৫ বছর।
উপকারভোগী: পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ফলে দেশের ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি সুফল পাবেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি, সরকার গঠনের পর তা বাস্তবায়নের পথে যাত্রা শুরু করল। উল্লেখ্য, ১৯৬০-এর দশক থেকে ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদী ও কৃষি রক্ষায় এই ব্যারেজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিল স্থানীয় জনগণ। ১৯৭৫ সালে ভারত ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর গত ৫০ বছরে পদ্মার মূলধারা শুকিয়ে যাওয়ায় এবং অনেক শাখা নদী বিলীন হয়ে যাওয়ায় এই ব্যারেজ নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছিল।
মন্ত্রীর বক্তব্য:
ব্রিফিংয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, আগামী বাজেটের পরপরই এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ভারতের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, “পদ্মা ব্যারেজ আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই এটি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই। তবে গঙ্গা চুক্তি নবায়নে দুই দেশের কমিশন নিয়মিত কাজ করছে।”
ব্যারেজটি নির্মিত হলে পদ্মার নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং উত্তর ও দক্ষিণ-বঙ্গের বিশাল এলাকায় সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


