হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক: সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ২ জন এবং হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে গত দুই মাসে দেশজুড়ে এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭৫ জনে।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ বিশেষ বুলেটিন ও প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান ও বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর চিত্র:
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার (১৮ মে) সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। এই সময়ে হামের উপসর্গে মারা যাওয়া ৯ শিশুর মধ্যে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ ৩ জন করে মোট ৬ জন মারা গেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে শিশু মারা গেছে। জেলা হিসেবে ঢাকা এবং মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি ২ জন করে শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি বছরের ১৯ মে পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৭-৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৭৭ জনের নিশ্চিতভাবে হামের কারণেই মৃত্যু হয়েছে।
নতুন রোগী ও হাসপাতালে ভর্তির চিত্র:
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬৪ জন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১১০ জন। এ ছাড়া ল্যাবরেটরি টেস্টে নতুন করে আরও ৭৩ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঝুঁকিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ:
বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, আক্রান্তের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৫৪৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপরের অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩০ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৪৭ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। নিশ্চিত হাম শনাক্তের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের দ্রুত হামের টিকা (এমআর) নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের জ্বর বা শরীরে গুটি দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।