শিশু রামিসা হত্যা: আসামির পক্ষে লড়বেন না ঢাকা বারের কোনো আইনজীবী
আদালত প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামির পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেবেন না ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) কোনো সদস্য।
আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে বারের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন:
‘ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বারের কোনো বিজ্ঞ আইনজীবী রামিসা হত্যা মামলার আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন না।’
পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক ও পেশাগত দায়বদ্ধতা থেকে দেশের সর্ববৃহৎ এই আইনজীবী সমিতি এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আদালত পাড়ায় আলোচনা চলছে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির ভুক্তভোগী অর্থাৎ রামিসার পরিবারের পক্ষে আদালতে বিনামূল্যে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
নৃশংসতার বিবরণ ও মামলার অগ্রগতি:
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতি থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার দিন সকালে রামিসা বাসা থেকে বের হলে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা তাকে ফুসলিয়ে নিজের কক্ষে ডেকে নেয়। সেখানে শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতনের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় জনতা সন্দেহভাজন হিসেবে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রাখলেও মূল হোতা সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ও থানা পুলিশের বিশেষ দল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর গতকাল আদালতে হাজির করা হলে খুনি সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।
এদিকে শিশু রামিসা হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে রাজপথে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের পাশাপাশি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেও সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাতে খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিরপুরে রামিসার শোকার্ত মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিতে তাদের বাসায় ছুটে যান।