জন-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে চলায় দুই মাসেই সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

May 23, 2026 | Feature-2 |

বরিশাল ব্যুরো: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “মানুষের বিপুল আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকার এবং সংসদ গঠিত হলেও প্রথম অধিবেশনেই জনগণ চরমভাবে আশাহত হয়েছে। সরকার জনগণের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়ে জন-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। আর এ কারণেই ক্ষুব্ধ জনগণ এখন মন্ত্রীদের দেখে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিচ্ছে।”

আজ শনিবার (২৩ মে) বরিশাল মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী রুকন শিক্ষাশিবিরের (টিসি) শেষ দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় উপেক্ষায় রাজনৈতিক সংকট:
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ জনগণের দেওয়া মতামতকে উপেক্ষা করে সরকার যে কৃত্রিম রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে, তা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ছিল। এই সংকটের মাত্রা এখন এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, মন্ত্রী-এমপিদের খোদ জনগণ থেকেই পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদাগুলো একে একে পদদলিত করে সরকার এখন একদলীয় ফ্যাসিবাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।” এ সময় তিনি প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদের তৈরি করা যে সংবিধান নতুন করে ফ্যাসিবাদের জন্ম দিচ্ছে, বিএনপি এখন সেই সংবিধান রক্ষার জন্যই উঠেপড়ে লেগেছে।”

প্রধানমন্ত্রীকে অসীম ক্ষমতা প্রদান ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গ:
সংবিধানের সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, “বিদ্যমান সাংবিধানিক পথসমূহ বর্তমানে জুলুমের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে যে অসীম ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে, তার মাধ্যমে দেশে কখনোই একটি ভারসাম্যপূর্ণ সরকার ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে না। যে ছাত্র-যুবক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে জীবন দিয়ে হাসিনা সরকারকে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করল, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় বসেই সেই ছাত্র-জনতার গণদাবিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।”

তিনি অতীতের রাজনৈতিক ঐক্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “৩৩টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ আলোচনার পর ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জুলাই সনদ’ এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই স্মারক’ অনুমোদিত হয়েছিল। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে ৮৪টি বিষয়ে সকল দল একমত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে করার প্রজ্ঞাপন দেন। আমরা গণভোট আগে চাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে একই দিনে নির্বাচন মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপির একমুখী দাবির প্রেক্ষিতে যে নির্বাচন হলো, তার নেতিবাচক ফলাফল আজ জনগণ দেখতে পাচ্ছে। গণভোট আগে হলে আজকের পরিস্থিতি এমন হতো না।”

সরকারের প্রতি জামায়াতের বার্তা:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহিংসতায় বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমরা বুকে পাথর চেপে নির্বাচনের এই ফলাফল মেনে নিয়েছি। আমরা এখনই সরকারের পদত্যাগ চাই না। আমরা চাই সরকার জনগণের মেন্ডেট নিয়ে পূর্ণ পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করুক এবং জনরায়কে আমলে নিয়ে সংবিধান সংশোধন করুক। তবে জনগণকে ভুল বুঝিয়ে বেশি দূর এগোনো যাবে না; বিএনপিও যদি তার অবস্থান পরিবর্তন না করে, তবে জনগণ আবারও রাজপথে নেমে আসবে।”

তিনি মন্ত্রীদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপির অবস্থা এখন হয়েছে ‘শালিস মানি কিন্তু তালগাছ আমার’। এই নীতি থেকে সরে এসে গণভোটে জনগণ যে চারটি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে, তার সবগুলোই সরকারকে মেনে নিতে হবে। আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই সরকার গণভোটের বিল এনে তা পাস করিয়ে এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি:
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগরী আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মু. বাবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, নড়াইল জেলা আমির আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি, মাওলানা একেএম ফকরুদ্দিন খান রাজি এবং অধ্যাপক শাহ্ আলম।

মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আতিকুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— মহানগরী নায়েবে আমির মাহমুদ হোসাইন দুলাল, মহানগরী সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান, জামায়াত নেতা শেখ নেয়ামুল করিম এবং ড. ফয়জুল হকসহ বরিশাল মহানগরীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।



Leave a Comment