কক্সবাজার আদালত চত্বরে গোলাগুলি, যুবক গুলিবিদ্ধ: অস্ত্রসহ আটক ১
কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে প্রকাশ্য দিবালোকে এক নজিরবিহীন গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার অক্ষত থাকলেও তাঁর সঙ্গে থাকা মইন উদ্দিন (৩৫) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ রোববার (২৪ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালত ভবনের নিচতলায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
হাজিরা শেষে গাড়িতে ওঠার সময় অতর্কিত হামলা:
পুলিশ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম হত্যা মামলার হাজিরা দিতে আজ সকালে আদালতে এসেছিলেন আসামিরা। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজিরা পর্ব সম্পন্ন করে বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীসহ অন্যরা যখন নিচে নেমে গাড়িতে উঠছিলেন, ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা অস্ত্রধারীরা তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। স্থানীয়দের ধারণা, এটি লিয়াকত আলীকে হত্যার একটি পূর্বপরিকল্পিত চেষ্টা ছিল।
আহতকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর:
সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে মইন উদ্দিন নামের ওই যুবক মারাত্মক জখম হন। ঘটনার পরপরই তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরিভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অস্ত্রসহ আটক ও গণধোলাই:
গোলাগুলির পরপরই আদালত চত্বরে উপস্থিত জনতা ধাওয়া করে আগ্নেয়াস্ত্রসহ জিয়াউল হক (২৭) নামের এক যুবককে ধরে ফেলে। পরে তাকে গণধোলাই দিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। আটক জিয়াউল ঈদগাঁও থানার কালিরছড়া অঞ্চলের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এ ছাড়া এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আব্দু শুক্কুর ও মো. রুবেল নামের আরও দুজনকে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও থমথমে পরিস্থিতি:
এর আগেও নিজ বাসভবনে বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সার্বিক বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আদালত চত্বরে গুলির ঘটনায় অস্ত্রসহ একজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও গোলাগুলির ঘটনার সাথে জড়িত বাকি অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।”