বাসচাপায় প্রাণ গেল দম্পতি ও অবুজ শিশুর

বরিশাল ব্যুরো: পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে নাড়ির টানে মোটরসাইকেলে চড়ে সপরিবারে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের তিনজন। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোড় এলাকায় এই লোমহর্ষক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে এক দম্পতি ও তাঁদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটি ভাঙচুর করে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই রুটে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

নিহতদের পরিচয়:
নিহত ভাগ্যবহতরা হলেন—বরিশালের উজিরপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ছেলে ফিরোজ মাহমুদ, তাঁর স্ত্রী মনিয়া বেগম এবং তাঁদের ছোট শিশুসন্তান জান্নাত।

যেভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা:
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের অফিসার মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফিরোজ মাহমুদ তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে ঢাকা থেকে নিজ বাড়ি উজিরপুরের উদ্দেশ্যে আসছিলেন। পথিমধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে তীব্র যানজটের মুখে পড়েন তাঁরা। এ সময় যানজটের কারণে ফিরোজ তাঁর মোটরবাইকটি সড়কের একপাশে দাঁড় করিয়ে রাখেন।

ঠিক ওই মুহূর্তেই পেছন থেকে ধেয়ে আসা ‘তাজ পরিবহন’ নামের একটি দ্রুতগামী বরিশালগামী যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলটিকে সজোরে চাপা দেয়। বাসের ভারী চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলে থাকা বাবা, মা ও শিশুর নির্মম মৃত্যু হয়।

উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভ ও পুলিশের বক্তব্য:
দুর্ঘটনার পরপরই উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ পথচারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা ঘাতক বাসটির ওপর চড়াও হয়ে ভাঙচুর শুরু করেন এবং সড়কে অবস্থান নেন। তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও তাঁর সহকারী কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা মরদেহ উদ্ধার করেন এবং হাইওয়ে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন জানান, “দুর্ঘটনাকবলিত তাজ পরিবহনের বাসটিকে আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ায় বর্তমানে মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়েছে। পলাতক চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”



Leave a Comment