উত্তেজনার মাঝেই আল-আকসায় হাজারো মুসল্লির ঈদের নামাজ

মে ২৭, ২০২৬ | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলমান তীব্র যুদ্ধ আর চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার আবহের মধ্যেই ফিলিস্তিনের দখলকৃত জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন হাজার হাজার মুসলিম মুসল্লি। আজ বুধবার (২৭ মে) পবিত্র উৎসবের প্রথম দিনে সব ধরনের বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আল-আকসার বিশাল চত্বরজুড়ে ঈদের জামাতে অংশ নিতে ভিড় জমান তাঁরা। অন্যদিকে, চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের কারণে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনায় এসেছে ইসরাইল-গাজা পরিস্থিতি।

আল-আকসায় উপচে পড়া ভিড়:

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার দিনব্যাপী পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির প্রথম দিন বুধবার ভোর থেকেই দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদের চারপাশের চত্বর মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। ফিলিস্তিনি মুসলমানরা অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সেখানে ঈদের প্রধান জামাতে শরিক হন।

ঈদুল আজহা মূলত মহান আল্লাহর নির্দেশে মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর নিজের সন্তানকে কুরবানি করার অবর্ণনীয় প্রস্তুতির স্মরণে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। উল্লেখ্য, খ্রিস্টান ও ইহুদি সম্প্রদায়ের কাছেও তিনি সমভাবে ‘আব্রাহাম’ নামে অত্যন্ত পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। এই বিশেষ ত্যাগের দিনে মুসলমানরা পশু কুরবানি করে থাকেন এবং সেই মাংসের একটি বড় অংশ সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন।

যুদ্ধবিরতির মাঝেই গাজায় রক্তপাত:

ইসলামিক চন্দ্র ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র এই উৎসবটি এমন এক বিষাদময় সময়ে পালিত হচ্ছে, যখন গত বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত হামলায় কমপক্ষে ৮৮০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৬৪৫ জনেরও বেশি মানুষ। মূলত ইসরাইলি আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ করার লক্ষ্যেই এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছিল।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা:

নথি বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাঁদের সিংহভাগই নিরীহ নারী ও শিশু। এ ছাড়া ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ। দীর্ঘদিনের এই ভয়াবহ যুদ্ধ ও মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণের ফলে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো, ঘরবাড়ি ও হাসপাতাল ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।



Leave a Comment