১৭ বছরের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ফসল জঙ্গল সলিমপুর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দীন
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ফসল হচ্ছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এই ‘জঙ্গল সলিমপুর’ মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দীন আহমদ বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুর থেকে কোনো সাধারণ বা বৈধ অধিবাসীকে উচ্ছেদ করা হবে না। তবে সেখানে কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপের অস্তিত্ব বরদাশত করা হবে না; শুধু সন্ত্রাসীদের আস্তানাগুলো সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
আজ রবিবার (৩১ মে) সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বহুল আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দীর্ঘ দেড় ঘণ্টাব্যাপী চট্টগ্রামের সর্বস্তরের প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মাদক-সন্ত্রাস ও অবৈধ বাণিজ্য বন্ধের হুঁশিয়ারি:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দীন আহমদ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, “বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। দেশের জনগণকে একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক জীবন দেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার, প্রশাসন তার সবকিছুই করবে। মাদক, সন্ত্রাসসহ কোনো ধরনের অবৈধ বাণিজ্য এই দেশে চলতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে জঙ্গল সলিমপুরের মতো জায়গায় রাষ্ট্রের ভেতরে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা সমান্তরাল রাজত্ব গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না।”
সরকারি খাস জমিতে নতুন মহাপরিকল্পনা:
জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাস জমির ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “এখানকার সরকারি খাস জায়গায় নতুন কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার স্থায়ী ভবন নির্মাণের কিছু মেগা পরিকল্পনা রয়েছে। আমি আবারও সলিমপুরের বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই— কোনো সাধারণ ও নিরীহ জনগণকে এখান থেকে উচ্ছেদ করা হবে না। আমাদের অভিযান কেবল চিহ্নিত অপরাধী আর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গল সলিমপুর সফর ও ব্রিফিংয়ের সময় তাঁর সাথে মাঠপর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়া উদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া এবং জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমসহ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রধানগণ।