নেত্রকোনায় বাসের চাপায় মা ও দুই মেয়ে নিহত

মে ৩১, ২০২৬ | Feature-2 |

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনায় যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি নৃশংস চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আরোহী একই পরিবারের মা ও তাঁর দুই মেয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আজ রোববার (৩১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চল্লিশা বাইপাস এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আমলি কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা নূরজাহান বেগম (৪০), তাঁর বড় মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৬) এবং ছোট মেয়ে ইতি আক্তার (১০)।

ঘটনাস্থলেই পিষ্ট একই পরিবারের তিনজন:

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনাগামী ‘মহুয়া পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস চল্লিশা বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে সরাসরি ও সজোরে চাপা দেয়। বাসের গতি এতই বেপরোয়া ছিল যে অটোরিকশাটি মুহূর্তের মধ্যে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা মোট ছয়জন যাত্রীর মধ্যে ঘটনাস্থলেই মা ও তাঁর দুই মেয়ের নির্মম মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৩ জন:

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় অটোরিকশার বাকি তিনজন যাত্রীও গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর পরই চল্লিশা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ও এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে গতিরোধক (স্পিডব্রেকার) ও গোলচত্বর নির্মাণের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে দুপুরের দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সড়কে পুনরায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। জেলা পুলিশ এই ঘটনায় ঘাতক বাসটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।



Leave a Comment