সরকারি দলের জন্যই অ্যাকশন নিতে পারছে না পুলিশ: বিরোধীদলীয় উপনেতা
কুমিল্লা প্রতিনিধি: দেশে চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনাকাঙ্ক্ষিত অবনতির পেছনে সরাসরি সরকারি দল বিএনপির নেতা-কর্মীরাই জড়িত বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
আজ রোববার (৩১ মে) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
সরকারি দলের সংশ্লিষ্টতায় হাত গুটিয়ে আছে প্রশাসন:
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “বর্তমানে দেশে যেসব অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা ঘটছে, তার অধিকাংশের সাথেই সরকারি দলের লোকজন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। অপরাধের সাথে খোদ সরকারি দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সম্পৃক্ত থাকার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের বিরুদ্ধে যে ধরনের কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তা স্বাধীনভাবে করতে পারছে না।” এর ফলে মাঠপর্যায়ে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
বিএনপির ভূমিকা নিয়ে জনগণের মাঝে হতাশা:
সরকারের তিন মাসের মাথায় সাধারণ মানুষের ভেতর চরম হতাশা কাজ করছে উল্লেখ করে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “জনগণ যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকারে বসিয়েছিল— তারা সংবিধান সংস্কার কমিশন করবে, পার্লামেন্টারি সিস্টেমের আরও উন্নতি ঘটাবে, দেশের সবাইকে সাথে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলবে এবং সন্ত্রাস ও সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে— দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো পর্যন্ত বিএনপির কাছ থেকে তেমন কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাইনি।”
তিনি আরও ঘোষণা দেন, আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী আরও বেশি সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।
‘এত তাড়াতাড়ি ব্যর্থ সরকার বলতে চাই না’:
বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, “আমরা বিএনপিকে এত তাড়াতাড়ি একটি ‘ব্যর্থ সরকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে চাই না। তবে দেশের বর্তমান নেতিবাচক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই হাল যদি আগামীতেও অব্যাহত থাকে, তাহলে বিএনপির ব্যর্থতার বিষয়টি জনগণের কাছে আরও বেশি পরিষ্কার হয়ে উঠবে। তখন আমরা মুখে ব্যর্থ সরকার না বললেও দেশের সাধারণ মানুষই তাদের ব্যর্থ সরকার হিসেবে ট্রিট (বিবেচনা) করতে শুরু করবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি মারাত্মক ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।”
চৌদ্দগ্রামের এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।